দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের উদ্যোক্তারা জ্বালানির ধারাবাহিক নতুন দাম নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বারবার গ্যাসের দাম, জ্বালানি তেলের সমন্বয় এবং বিদ্যুতের নতুন দর নির্ধারণের ফলে শিল্প উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে, যা তাদের ব্যবসায়িক টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং এফবিসিসিআই-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বা ভর্তুকি কমাতে জ্বালানির যে মূল্যবৃদ্ধি বা বারবার সমন্বয় করা হচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।
উদ্যোক্তাদের প্রধান উদ্বেগের জায়গাগুলো হলো:
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: টেক্সটাইল, পোশাক, সিরামিক, স্টিল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের মতো ভারী জ্বালানিনির্ভর শিল্পগুলোতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস: আন্তর্জাতিক বাজারে চীন, ভিয়েতনাম, কিংবা পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের দামে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব: ব্যবসায়ীরা জানান, বাড়তি দাম দেওয়ার পরও অনেক শিল্পাঞ্চলে চাহিদামতো ও পর্যাপ্ত চাপের (Pressure) গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে বেশি দাম, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ না থাকা—এই জোড়া সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি: শিল্প উৎপাদনে খরচ বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, জ্বালানির দাম বারবার এভাবে না বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি সিস্টেম লস কমানো, অপচয় বন্ধ করা এবং জ্বালানি খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একটি উত্তর দিন